রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬




মহান আল্লাহ্ পাকের যিকির সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের বাণী
তিবরানী এ হাদীসটি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- এমন কোন জাতি নেই যারা আল্লাহর যিকিরের জন্য মজলিসে বসেছে অথচ জনৈক ঘোষক আকাশ থেকে তাদেরকে এই বলে আহবান করেননি-“নিশ্চয়ই তোমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে এবং তোমাদের পাপসমূহ পূণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেয়া হয়েছে।”
আসকারী এ হাদীসটি হযরত হানযালা আবসী (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! ফজর ও আসর নামাযের পরে কিছু সময়ের জন্য আমাকে স্মরণ কর। তা হলে উভয় নামাযের মধ্য সময়ে আমি তোমাকে সহায়তা করব।”
আবূ নুয়াঈ’ম এ হাদীসটি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মূসা (আ) বললেন, “হে আমার রব। আমি চাই, তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমি যাকে ভালবাস আমিও যেন তাকে ভালবাসতে পারি।” আল্লাহ্‌ বললেন, “(হে মূসা), তুমি যখন দেখ, আমার কোন বান্দা বেশি আমার যিকির করছে (তখন বুঝে নিও) আমি তাকে এর ক্ষমতা দিয়েছি, আমার অনুমতিক্রমেই সে আমার যিকির করছে এবং তাকে আমি ভালবাসি। আর যখন দেখ, আমার কোন বান্দা আমার যিকির করে না তখন যেন আমি তাকে এ (আল্লাহর যিকির) থেকে বিরত রেখেছি এবং আমি তার উপর রুষ্ট।”
দারু কুতনী এ হাদীসটি হযরত উমর (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও মর্যাদাশীল আল্লাহ্‌ বলেছেন, “রাগাম্বিত হওয়ার সময়ে যে আমাকে স্মরণ করে, আমিও রাগাম্বিত সময়ে তাকে স্মরণ করব এবং যাদেরকে আমি ধ্বংস করব, তাকে তাদের মধ্যে শামিল করব না।“
এ হাদীসটি দায়লামী আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ বলেন, “আমার যিকির যাকে এরূপভাবে নিমগ্ন রাখে যে, সে আমার কাছে কিছু চাওয়ার সময় পায় না, তাকে আমি এমন বস্তু দান করব, যা প্রার্থনাকারীদের প্রাপ্য বস্তুর চেয়েও উত্তম।”
দায়লামী এ হাদীসটি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
আল্লাহ যাকে যিকির করতে নিষেধ করেছেনঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- আল্লাহ্‌ দাউদ (আ)-এর প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন, “জালিমদেরকে বলে দাও, তারা যেন আমাকে স্মরণ না করে। কারণ যে লোক আমায় স্মরণ করে, আমিও তাকে স্মরণ করি। আর জালিমদেরকে স্মরণ করার অর্থ হল তাদের প্রতি আমার অভিশাপ বর্ষণ কর।”
হাকেম এ হাদীসটি ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আনুগত্যের সাথে তোমরা আমাকে স্মরণ কর, তোমাদেরকে আমি ক্ষমা সহকারে স্মরণ করব। আমাকে যে স্মরণ করে সাথে সাথে সে যদি আমার অনুগত হয়, তবে আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে, আমি যেন তাকে ক্ষমার সাথে স্মরণ করি। আর যে আমাকে স্মরণ করে- অথচ সে আমার অবাধ্যচারী, তবে আমার জন্য কর্তব্য হয়ে পড়ে, আমি যেন তাকে ঘৃণার সাথে স্মরণ করি।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- হযরত মূসা (আ) - এর প্রতি আল্লাহ প্রত্যাদেশ করলেন, “হে মূসা! তুমি কি এটা চাও যে, আমি তোমার ঘরে তোমার সাথে বসবাস করি? এই শুনে হযরত মূসা (আ) আল্লাহর উদ্দেশে সিজদায় রত হলেন অতঃপর নিবেদন করলেন- ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার সাথে আমার ঘরে কিভাবে বসবাস করবেন? ’ অনন্তর আল্লাহ্‌ বললেন, হে মুসা! তুমি কি জান না আমায় যে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গী হই? আর আমার বান্দা আমাকে যেখানে খোজে, সেখানেই আমাকে পায়।“
দায়লামী এ হাদীসটি সাওবান (রা) সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমি আমার বান্দার সাথে অবস্থান করি। যতক্ষণ সে আমার যিকির করে এবং আমার যিকিরে তার দু’ঠোট সঞ্চারিত হয়।”
ইবনু আসাকির এ হাদীসটি আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই জিবরাঈ’ল (আ) আদমের প্রয়োজন মেটানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন। অতঃপর কোন অবিশ্বাসী বান্দা যখন দু’আ করে তখন মহান আল্লাহ বলেন, “হে জিবরাঈল! তার প্রয়োজন পূরণ করে দাও। আমি তার দু’আ শুনতে চাই না।” আর কোন মু’মিন বান্দা যখন দু’আ করে তখন আল্লাহ্‌ বলেন, “হে জিবরাঈল! তার প্রয়োজন স্থগিত রাখ, কারণ আমি তার আহবান শুনতে পছন্দ করি।”
ইবনুন নাজ্জার এ হাদিসটি হযরত জাবির (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার প্রতি বান্দার যে ধারণা রয়েছে আমি তার সাথে থাকি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তখন তার সাথেই থাকি।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর কসম! তোমাদের তওবা করায় আল্লাহ্‌ সেরূপ আনন্দিত হন, মরুভূমিতে হারিয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী খুজে পেলে তোমরা যেরূপ আনন্দিত হও। আমার দিকে যে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আমার দিকে সে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই; আর সে যখন আমার দিকে পায়দলে অগ্রসর হয়, আমি তখন দ্রুতবেগে তার দিকে অগ্রসর হই।”
আহমদ ও শায়খাইন হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- শয়তান বলল, “ইয়া রব! তোমার ইজ্জতের কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করতে থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ থাকবে।” অতঃপর পূত-পবিত্র প্রভূ বললেন, “আমার ইজ্জত ও জালালের কসম! আমি তাদেরকে মাফ করতে থাকব যে পর্যন্ত (তারা) আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমার ভালবাসা সে সকল লোকের জন্য নির্ধারিত, যারা আমার উদ্দেশ্যে পরসপরের সাথে বসে।আমার আমার ভালবাসা সে সকল ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে যারা আমার উদ্দেশ্যে একে অপরের জন্য ধন-সম্পদ ব্যয় করে। আর আমার ভালবাসা সে সকল ব্যক্তির জন্য নির্ধারণ হয়েছে, যারা আমার উদ্দেশ্যে পরসপরের সাথে দেখা সাক্ষাত করে।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই গৌরব আমার পোশাক এবং অহংকার আমার চাদর। এতএব, যে তা নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি শাস্তি দেব।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- রাতের বেলা যখন আমাকে উর্ধ্বলোক ভ্রমণ (মেরাজ) করান হল, আমি তখন আমার মহান ও মর্যাদাশালী প্রতিপালকের সমীপে উপস্থিত হলাম। তিনি আমার মর্যাদা সম্বন্ধে তিনটি বিষয়ে আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন, তাতে বলা হল, তিনি (আমি) প্রেরিত রাসূলদের নেতা, ধর্মভীরুদের অভিভাবক ও বন্ধু এবং কপাল ও হাত-পায়ে শুভ্র চিহ্ন ধারণকারীদের সরদার।”
ইবনু মাজা এ হাদীসটি হযরত আয়েশা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই আমার কাছে একজন ফেরেশতা এলেন এবং বললেন, “তোমার প্রতিপালক তোমার সম্পর্কে বলেন, এটা কি তোমার জন্য পছন্দনীয় নয় যে, তোমার কোন উম্মত তোমার উপর একবার দরূদ প্রেরণ করে, আমি তখন তার প্রত দশবার রহমত পাঠাই। আর তোমার কোন উম্মত যদি তোমার উপর একবার সালাম (শান্তি বর্ষণ) প্রেরণ করে, আমি তখন তার প্রত দশবার সালাম (শান্তি) পাঠাই? আমি তখন বললাম, হ্যা (নিশ্চয়ই) পছন্দ করি।”
তিবরানী ও নাসায়ী এ হাদীসটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবূ তালাহা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই এটা গোপনীয় উক্তির অন্তর্ভূক্ত; তোমরা যদি আমাকে এটা জিজ্ঞেস না করতে, তবে তোমাদেরকে আমি এ সম্বন্ধে জানতাম না। মহান আল্লাহ্‌ আমার ব্যাপারে দু’জন ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন, কোন মুসলমানের সামনে আমার নাম নেয়া হয় আর সে আমার প্রতি দরূদ প্রেরণ করে, তখন উক্ত দু’ফেরেশতা সে লোকের জন্য বলে, ‘তোমাকে আল্লাহ্‌ মাফ করুন’। আল্লাহ্‌ ও তাঁর অন্যান্য ফেরেশতারা এ দু’ফেরেশতার জওয়াবে বলেন, ‘আমীন’।” বর্ণনাকারী বলেছেন, সাহাবাগণ আরয করেছিলেন, ‘ইয়া রাসূলালআহ! ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা্‌ আ’লান-নাবিয়্যি’ উক্তির অর্থ কি? তিনি তখন উল্লেখিত বক্তব্য দিলেন।
এ হাদীসটি আহমদ সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- আমার উম্মতের হিসাব আমার উপর ন্যাস্ত করার জন্য আমি মহান আল্লাহর সমীপে আরয করলাম, যাতে তারা অপরাপর উম্মতের সামনে লাঞ্ছিত না হয়, তখন মহান ও পরাক্রমশালী রব আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন, “হে মুহাম্মদ! আমি তাদের হিসাব গ্রহণ করব। অনন্তর তাদের যদি কোন ক্রটি হয়, আমি তোমার কাছেও তা গোপন রাখাব, যাতে তারা তোমার কাছেও অপদস্থ না হয়।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যখন অর্ধ শা’বানের (অর্থাৎ পনরই শা’বানের) রাত আসে তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম অর্থাৎ এবাদাত কর এবং দিনে রোযা রাখ। কারণ আল্লাহ্‌ তাতে সূর্যাস্তের পর পরই পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, “কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী কি নেই যে, আমি তাকে ক্ষমা করতে পারি? কোন জীবিকা অনুসন্ধানকারী কি নেই যে, আমি তাকে জীবিকা দিতে পারি? কোন অসুস্থ ব্যক্তি কি নেই যে, আমি তাকে সুস্থতা দান করতে পারি? কোন প্রার্থনাকারী কি নেই যে, তাকে আমি প্রার্থিত বস্তু দিতে পারি? এরূপ নেই কি? ” ফজর উদয় না হওয়া পর্যন্ত বলা হতে থাকে।
ইবনে মাজা এ হাদীসটি হযরত আলী (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- পৃথিবীতে যে নিজেকে উচ্চ মনে করে কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাকে নীচু করবেন। তার পৃথিবীতে যে আল্লাহর সামনে নম্রতা অবলম্বন করে, কেয়ামতের দিন তিনি তাকে পূর্ণ জীবন দান করে সামনে নিয়ে আসবেন এবং সমবেতদের মধ্য থেকে তাকে বাছাই করে নেবেন এবং বলবেন, “হে আমার উত্তম বান্দা!” মহান ও মর্যাদাশালী আল্লাহ সেদিন সেদিন বলতে থাকবেন, “আমার নিকটবর্তী হও, আমার নিকটবর্তী হও, নিশ্চয় তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত, যাদের কোন ভয় নেই এবং যাদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।”
হাকেম এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “যে লোক আমার অধিকারের বিষয়ে বিনয় প্রকাশ করে ( বা আমার উদ্দেশে নম্রতা প্রদর্শন করে) এবং আমার সামনে বিনয় প্রকাশ করে, আর আমার দুনিয়ায় তাকাব্বুর (অহংকার) করে না, আমি তাকে উন্নত করতে থাকি; এমন কি শেষ পর্যন্ত তাকে আমি ইল্লীনে পৌঁছে দেব।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ পৃথিবীকে সম্বোধন করে বলেন, “তুমি আমার আওলিয়াদের জন্য তিতা হয়ে যাও।” অর্থাৎ তাদেরকে তোমার কুহকে ফেল না।
ইমাম গাযযালী (রা) এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেন, “বিপদগ্রস্তদেরকে আমার আরশের কাছাকাছি কর। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে ভালোবাসি।”




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন